দিনাজপুরে থোকায় থোকায় ঝুলছে সৌদির ‘আজোয়া খেজুর’!

বাড়ির ছাদে লাগানো গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে সৌদির খেজুর! সৌদি আরবের বিখ্যাত আজোয়া জাতের খেজুর এখন দিনাজপুরের মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের ছে’লে মাহবুবুর রহমানের বাড়ির ছাদে চাষ হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সফল ওই খেজুর গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে সৌদির আজোয়া খেজুর।

সফল হওয়ায় এ জাতের খেজুরের চারা উৎপাদনে বাড়ির ছাদেই মিনি নার্সারি গড়ে তুলেছেন শহরের বালুয়াডাঙ্গা শহীদ মিনার মোড় নিবাসী মাহবুব। বাড়ির ছাদে মাটিতে রোপণ উপযোগী ছয় শতাধিক চারা প্রস্তুত রয়েছে।

এ ছাড়াও তিন শতাধিক বিচি থেকে চারা উৎপাদন প্রক্রিয়াধীন। চার বছরের মধ্যে এই গাছে ফলন হয়। বছরের যে কোনো সময় এই গাছের চারা লাগানো যায়। সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে গাছে ফুল আসে। তবে খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়ায় যেন পানি না জমে।

তিনি চারা যাদের কাছে বিক্রি করবেন তাদের গাছে ফলন না আসা পর্যন্ত সব রকম পরাম’র্শ ও সহযোগিতা করার কথা বলেছেন।

তিনি জানান, তার বাবা প্রায় ৩৫ বছর ম’দিনায় ম’দিনা ডেভেলপমেন্টের মেকানিক্যাল ও পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্ম’রত ছিলেন। অবসরের পর তিনি ম’দিনা থেকে আজোয়া জাতের খেজুরের কিছু বিচি সংগ্রহ করেন। বাবার আনা খেজুরের বিচি মা শামসুন নাহার একটি মাটির পাত্রে রোপণ করেছিলেন। এর পর থেকেই আমা’র কাজ শুরু।

সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে গাছে ফুল আসে। তখন পরাগায়নের জন্য পুরুষ গাছ থেকে সংগ্রহ করা পাউডার ফুলে ছিটিয়ে দিতে হয়। তাহলে ফলন ভালো হয়। যেদিন গাছে প্রথম ফুল আসে সেদিনই তিন থেকে চারবার পাউডার ছিটাতে হয়। প্রথমবার আমা’র গাছের দুটি থোকায় প্রায় ১৫ কেজি খেজুর পাওয়া যেতে পারে। পরের বছর থেকে তিনগুণ খেজুর পাওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, একটি গাছ বিচি থেকে রোপণ উপযোগী করতে তার ব্যয় হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার টাকা।

কোনো বাগানে যদি ২০টি গাছের চারা রোপণ করা হয় তাহলে সেই বাগানে একটি পুরুষ গাছ রোপণ করতে হবে পরাগায়নের জন্য। প্রথমে একটি বিচি একটি মাটির পাত্রে রোপণ করতে হয়। তারপর গাছের চারা ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি হলেই অন্য একটি বড় মাটির পাত্রে রোপণ করতে হয়।